ইউরোপ ভ্রমণের নিয়মে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি এখন কার্যকর। ১০ এপ্রিল ২০২৬ থেকে শেনজেন এলাকার সীমান্তে পাসপোর্টে সিল দেওয়ার পুরনো পদ্ধতি সম্পূর্ণভাবে প্রতিস্থাপন করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন এন্ট্রি/এক্সিট সিস্টেম (EES)। বাংলাদেশী পাসপোর্টধারী যারা শেনজেন ভিসা নিয়ে ইউরোপে যাচ্ছেন, তাদের প্রত্যেককেই এখন এই নতুন বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। এর সাথে বছরের শেষ দিকে আসছে ২০ ইউরোর নতুন ভ্রমণ অনুমোদন ব্যবস্থা ETIAS। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
ইইএস (EES) কী এবং কীভাবে কাজ করে?
ইইএস একটি ইলেকট্রনিক সীমান্ত ব্যবস্থা, যা শেনজেনভুক্ত দেশগুলোতে তৃতীয় দেশের নাগরিকদের প্রতিটি প্রবেশ ও প্রস্থান ডিজিটালভাবে রেকর্ড করে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ধাপে ধাপে চালু হওয়ার পর ১০ এপ্রিল ২০২৬ থেকে এটি সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হয়েছে।
- বায়োমেট্রিক নিবন্ধন: প্রথমবার শেনজেন সীমান্ত পার হওয়ার সময় আপনার আঙুলের ছাপ এবং ফেসিয়াল ইমেজ (মুখের ছবি) নেওয়া হবে।
- পাসপোর্টে আর সিল নয়: প্রবেশ ও প্রস্থানের তারিখ এখন ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত হয়, ফলে ৯০/১৮০ দিনের হিসাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্র্যাক হয়।
- অতিরিক্ত প্রশ্ন: সীমান্তে থাকার উদ্দেশ্য, হোটেল বুকিং ও ফিরতি টিকিট সম্পর্কে প্রশ্ন করা হতে পারে।
- প্রথমবার সময় বেশি লাগবে: প্রথম নিবন্ধনে অতিরিক্ত ১০-১৫ মিনিট সময় ধরে রাখুন; পরবর্তী ভ্রমণে স্বয়ংক্রিয় গেটে দ্রুত পার হওয়া যাবে।
বাংলাদেশীদের জন্য এর অর্থ কী?
- শেনজেন ভিসার প্রয়োজনীয়তা আগের মতোই আছে — ইইএস ভিসার বিকল্প নয়, এটি সীমান্ত পারাপারের নতুন পদ্ধতি।
- অনুমোদিত সময়ের চেয়ে একদিন বেশি থাকলেও (ওভারস্টে) তা এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড হবে, যা ভবিষ্যতের ভিসা আবেদনে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
- পুরনো পাসপোর্টের সিল দেখিয়ে ভ্রমণ ইতিহাস প্রমাণের দিন শেষ — ভিসা আবেদনের সময় পুরনো ভিসার কপি সংরক্ষণ করুন।
ETIAS: বছরের শেষে আসছে ২০ ইউরোর নতুন অনুমোদন
ইইএসের পরের ধাপ হলো ETIAS (European Travel Information and Authorisation System)। তবে মনে রাখা জরুরি — ETIAS শুধুমাত্র ভিসা-মুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য। বাংলাদেশী পাসপোর্টধারীদের আগের মতোই শেনজেন ভিসা নিতে হবে, ETIAS নয়।
- ETIAS ফি ২০ ইউরো; ১৮ বছরের কম ও ৭০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য বিনামূল্যে।
- ২০২৬ সালের শেষ প্রান্তিকে চালুর কথা থাকলেও সাম্প্রতিক সংবাদ অনুযায়ী তা ২০২৭ সালে পিছিয়ে যেতে পারে।
- যাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব আছে (যেমন যুক্তরাজ্য বা মার্কিন পাসপোর্ট), তারা সেই পাসপোর্টে ভ্রমণ করলে ETIAS প্রযোজ্য হবে।
ভ্রমণকারীদের জন্য পরামর্শ
- ফ্লাইটের কানেকশন টাইট রাখবেন না — বড় এয়ারপোর্টে ইইএস লাইনে অতিরিক্ত সময় লাগছে।
- হোটেল বুকিং, ফিরতি টিকিট ও ভ্রমণ বীমার কাগজ হাতের কাছে রাখুন — সীমান্তে দেখতে চাওয়া হতে পারে।
- শেনজেন এলাকায় ৯০/১৮০ দিনের হিসাব নিজে ট্র্যাক করুন; ইউরোপীয় কমিশনের অফিসিয়াল ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারেন।
- যেকোনো এজেন্ট 'ETIAS করে দেওয়ার' নামে টাকা চাইলে সতর্ক হোন — বাংলাদেশীদের জন্য ETIAS প্রযোজ্যই নয়।
সব মিলিয়ে, সঠিক কাগজপত্র নিয়ে ভ্রমণ করলে ইইএস নিয়ে ভয়ের কিছু নেই; বরং ডিজিটাল রেকর্ডের কারণে সৎ ভ্রমণকারীদের ইতিহাস আরও স্বচ্ছভাবে প্রমাণিত হবে। সর্বশেষ তথ্যের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের ঘোষণা নিয়মিত অনুসরণ করুন।
Need Help with Your Europe Visa?
Our expert consultants are here to guide you through every step of the process. Get a personalized assessment today!
Contact Us