যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হচ্ছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের বিশ্লেষণ করা হোম অফিসের তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশী আবেদনকারীদের স্টুডেন্ট ভিসা আবেদন প্রত্যাহারের হার ২৩.৫%, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৭.১%। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এই হার ৩% থেকে লাফিয়ে ৪০.৯% এবং নাইজেরিয়ার ক্ষেত্রে ৪.৫% থেকে ২২.৭%।
কেন বাড়ছে প্রত্যাহার ও অফার বাতিল
মূল কারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর হোম অফিসের বেসিক কমপ্লায়েন্স অ্যাসেসমেন্ট (BCA)-এর চাপ। স্পনসর করা শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ৫% ছাড়ালে (আগে সীমা ছিল ১০%) বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী স্পনসরের লাইসেন্স হারানোর ঝুঁকিতে পড়ে। ভিসা প্রসেসিং প্রতিষ্ঠান এনরোলির তথ্যমতে, প্রায় অর্ধেক বিশ্ববিদ্যালয়ের রিফিউজাল রেট ইতিমধ্যে ৫% ছাড়িয়েছে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ মনে হওয়া আবেদন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেরাই প্রত্যাহার করছে বা অফার/সিএএস বাতিল করছে। সার্বিকভাবে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে ইউকে স্টাডি ভিসা আবেদনের ১০.৫% প্রত্যাহার হয়েছে, আর প্রত্যাখ্যানের সংখ্যা আগের বছরের দ্বিগুণ।
'ভিসা ব্রেক' থেকে আপাতত রেহাই
মার্চ ২০২৬ থেকে আফগানিস্তান, ক্যামেরুন, মিয়ানমার ও সুদানের নাগরিকদের স্টুডেন্ট ভিসা আবেদন সরাসরি প্রত্যাখ্যানের 'ব্রেক' চালু করেছে যুক্তরাজ্য। বাংলাদেশ এ তালিকায় নেই, তবে শিক্ষা খাতের সংবাদমাধ্যম দ্য পাই নিউজ জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে সরকারের অভ্যন্তরে আলোচনা হয়েছিল — তাই ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি।
আবেদনকারীদের করণীয়
- ব্যাংক স্টেটমেন্টে ২৮ দিনের পূর্ণ তহবিল নিয়ম মেনে বৈধ উৎসের টাকা রাখুন; হঠাৎ বড় জমা বা ধার করা অর্থ এড়িয়ে চলুন।
- ক্রেডিবিলিটি ইন্টারভিউয়ের জন্য কোর্স, বিশ্ববিদ্যালয় ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনার যৌক্তিক ব্যাখ্যা প্রস্তুত রাখুন।
- এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর নির্ভর না করে বিকল্প অফার রাখুন এবং প্রয়োজনে আয়ারল্যান্ড, জার্মানি বা মালয়েশিয়ার মতো গন্তব্যও বিবেচনা করুন।
Need Help with Your UK Visa?
Our expert consultants are here to guide you through every step of the process. Get a personalized assessment today!
Contact Us