যুক্তরাজ্যে কাজ করার স্বপ্ন দেখেন এমন বাংলাদেশী পেশাজীবীদের জন্য ২০২৫ সাল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বছর। যুক্তরাজ্য সরকার অভিবাসন নীতিতে বেশ কিছু কঠোর এবং যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে, যা ২২ জুলাই, ২০২৫ থেকে কার্যকর হতে চলেছে। এই পরিবর্তনগুলির প্রধান লক্ষ্য হলো অভিবাসনের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা এবং যুক্তরাজ্যের নিজস্ব শ্রমশক্তির উপর বিনিয়োগ বাড়ানো। এই আর্টিকেলে আমরা স্কিলড ওয়ার্কার (Skilled Worker) ভিসার সর্বশেষ আপডেট এবং বাংলাদেশী আবেদনকারীদের জন্য এর প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
স্কিলড ওয়ার্কার ভিসা: নতুন বেতন ও দক্ষতার মানদণ্ড
২০২৫ সালের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে স্কিলড ওয়ার্কার ভিসার ক্ষেত্রে। আবেদনকারীদের এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি যোগ্যতা এবং উচ্চ বেতনের চাকরির অফার নিশ্চিত করতে হবে।
১. বর্ধিত বেতনসীমা (Salary Threshold)
স্কিলড ওয়ার্কার ভিসার জন্য ন্যূনতম সাধারণ বেতনসীমা £38,700 থেকে বাড়িয়ে **£41,700** করা হয়েছে। এর অর্থ হলো, একজন স্পন্সরড কর্মীকে অবশ্যই এই পরিমাণ বা তার পদের জন্য নির্ধারিত 'গোয়িং রেট' (going rate)-এর মধ্যে যেটি বেশি, সেটি পেতে হবে।
২. উচ্চতর দক্ষতার স্তর (Skill Level)
আবেদনের জন্য পদের ন্যূনতম দক্ষতার স্তর RQF Level 3 (যা A-level-এর সমতুল্য) থেকে বাড়িয়ে **RQF Level 6** (যা ব্যাচেলর ডিগ্রির সমতুল্য) করা হয়েছে। এর ফলে, অনেক মাঝারি দক্ষতার পদ এখন আর স্কিলড ওয়ার্কার ভিসার জন্য যোগ্য হবে না। তবে, যারা এই পরিবর্তনের আগে থেকেই এই রুটে আছেন, তাদের জন্য কিছু অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
৩. নতুন ইমিগ্রেশন স্যালারি লিস্ট (Immigration Salary List - ISL)
পূর্ববর্তী শর্টেজ অকুপেশন লিস্ট (Shortage Occupation List) বাতিল করে একটি নতুন **ইমিগ্রেশন স্যালারি লিস্ট (ISL)** চালু করা হয়েছে। এই তালিকায় থাকা পদগুলোর জন্য কিছুটা কম বেতনসীমার সুবিধা থাকলেও, তালিকাটি আগের চেয়ে অনেক সংক্ষিপ্ত।
হেলথ অ্যান্ড কেয়ার ওয়ার্কার ভিসা: একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ
কঠোর নিয়মের মধ্যেও বাংলাদেশী স্বাস্থ্যকর্মী এবং চিকিৎসকদের জন্য হেলথ অ্যান্ড কেয়ার ওয়ার্কার ভিসা একটি বড় সুযোগ হিসেবে রয়ে গেছে। এই ভিসার জন্য বেতনসীমা এবং অন্যান্য শর্তাবলী সাধারণ স্কিলড ওয়ার্কার ভিসার চেয়ে অনেক শিথিল।
- বেতনসীমা: এই ভিসার জন্য সাধারণ ন্যূনতম বেতনসীমা **£29,000** (অথবা পদের জন্য নির্ধারিত জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী)।
- স্বাস্থ্য সারচার্জ মওকুফ: এই ভিসার আবেদনকারী এবং তাদের নির্ভরশীলদের ব্যয়বহুল ইমিগ্রেশন হেলথ সারচার্জ (IHS) দিতে হয় না, যা একটি বড় আর্থিক সুবিধা।
- নির্ভরশীলদের উপর বিধিনিষেধ: একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো, কেয়ার ওয়ার্কার (Care Worker) এবং সিনিয়র কেয়ার ওয়ার্কার পদে আবেদনকারীরা এখন আর তাদের নির্ভরশীলদের (স্বামী/স্ত্রী ও সন্তান) যুক্তরাজ্যে আনতে পারবেন না। তবে ডাক্তার, নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়।
আবেদন প্রক্রিয়া এবং খরচ
আবেদন প্রক্রিয়া আগের মতোই অনলাইন-ভিত্তিক, তবে প্রতিটি ধাপে আরও বেশি সতর্কতা প্রয়োজন।
- চাকরির অফার ও স্পন্সরশিপ: প্রথম এবং প্রধান শর্ত হলো যুক্তরাজ্যের হোম অফিস দ্বারা অনুমোদিত একজন নিয়োগকর্তার কাছ থেকে একটি বৈধ চাকরির অফার এবং একটি সার্টিফিকেট অফ স্পন্সরশিপ (CoS) পাওয়া।
- অনলাইন আবেদন: CoS পাওয়ার পর GOV.UK ওয়েবসাইটে গিয়ে ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।
- ফি প্রদান: ভিসা আবেদন ফি এবং ইমিগ্রেশন হেলথ সারচার্জ (IHS) অনলাইনে প্রদান করতে হবে।
- স্কিলড ওয়ার্কার ভিসা ফি (৩ বছর পর্যন্ত): প্রায় £769
- হেলথ অ্যান্ড কেয়ার ভিসা ফি (৩ বছর পর্যন্ত): প্রায় £304
- ইমিগ্রেশন হেলথ সারচার্জ (IHS): প্রতি বছর £1,035 (হেলথ অ্যান্ড কেয়ার কর্মীরা অব্যাহতিপ্রাপ্ত)।
- বায়োমেট্রিক্স: ঢাকায় VFS Global সেন্টারে বায়োমেট্রিক তথ্য (ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ছবি) জমা দিতে হবে।
উপসংহার
২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যের ওয়ার্ক পারমিট ভিসার নতুন নিয়মাবলী নিঃসন্দেহে বাংলাদেশী আবেদনকারীদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। উচ্চ বেতন এবং উচ্চতর দক্ষতার প্রয়োজনীয়তা পূরণ করা এখন আগের চেয়ে কঠিন হবে। তবে, স্বাস্থ্য ও সেবা খাতে এখনও যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। আবেদনকারীদের উচিত সর্বশেষ নিয়মাবলী সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত থাকা এবং শুধুমাত্র অনুমোদিত নিয়োগকর্তার মাধ্যমে একটি বৈধ চাকরির অফার নিশ্চিত করে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করা।
Need Help with Your UK Visa?
Our expert consultants are here to guide you through every step of the process. Get a personalized assessment today!
Contact Us