প্রতি বছর ডিভি লটারির মৌসুম এলেই বাংলাদেশের ফেসবুক ছেয়ে যায় 'এবার বাংলাদেশ থেকে আবেদন করা যাবে', 'আমরা ফর্ম পূরণ করে দিচ্ছি' জাতীয় বিজ্ঞাপনে। শত শত মানুষ টাকা দিয়ে ফর্ম পূরণ করান — অথচ বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারির অযোগ্য দেশের তালিকায়।
কেন বাংলাদেশ অযোগ্য?
ডিভি প্রোগ্রামের নিয়ম অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে যে দেশ থেকে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ ফ্যামিলি বা এমপ্লয়মেন্ট ক্যাটাগরিতে আমেরিকায় অভিবাসন করেছে, সে দেশের জন্মগ্রহণকারীরা আবেদন করতে পারেন না। উচ্চ অভিবাসনের কারণে ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ এই তালিকায় — এবং সাম্প্রতিক কোনো ঘোষণায় এর পরিবর্তন হয়নি।
তাহলে কারা পারেন?
- স্বামী/স্ত্রীর সূত্রে: আপনার স্বামী বা স্ত্রী যদি যোগ্য দেশে জন্মগ্রহণকারী হন, তার আবেদনে আপনি ডেরিভেটিভ হিসেবে যুক্ত হতে পারেন।
- বাবা-মায়ের জন্মস্থান: আপনার বাবা-মা কেউ যদি যোগ্য দেশে জন্মে থাকেন (এবং বাংলাদেশে 'স্থায়ীভাবে বসবাসরত' না থেকে থাকেন), বিশেষ নিয়মে সেই দেশ দাবি করা যেতে পারে।
- এই ব্যতিক্রমগুলো জটিল — আবেদনের আগে অফিসিয়াল নির্দেশনা (dvprogram.state.gov) ভালোভাবে পড়ুন।
প্রতারণার ধরন চিনুন
- ডিভি আবেদন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং শুধুই dvprogram.state.gov-এ হয় — 'রেজিস্ট্রেশন ফি' চাওয়া মানেই প্রতারণা।
- 'আপনি লটারি জিতেছেন' ইমেইল/মেসেজে টাকা চাইলে নিশ্চিত থাকুন এটি ভুয়া — ফল শুধু অফিসিয়াল সাইটে কনফার্মেশন নম্বর দিয়ে নিজে চেক করতে হয়।
- কেউ 'বাংলাদেশ কোটায় ঢুকিয়ে দেওয়ার' দাবি করলে বুঝবেন তিনি নিয়মটাই জানেন না — অযোগ্য দেশের নাগরিকের ফর্ম জমা দিলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়।
বাস্তবসম্মত বিকল্প
আমেরিকায় যাওয়ার প্রমাণিত পথগুলোই ভরসা — স্টুডেন্ট ভিসা (F-1), দক্ষ পেশাজীবীদের H-1B/O-1, গবেষকদের J-1, ব্যবসায়ীদের B-1 কিংবা পারিবারিক স্পনসরশিপ। এসব পথে সময় ও প্রস্তুতি লাগে, কিন্তু প্রতিটি ধাপ বৈধ ও যাচাইযোগ্য। 'শর্টকাট' খুঁজতে গিয়ে সর্বস্ব হারাবেন না; সঠিক তথ্যের জন্য ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের অফিসিয়াল চ্যানেল অনুসরণ করুন।
Need Help with Your USA Visa?
Our expert consultants are here to guide you through every step of the process. Get a personalized assessment today!
Contact Us